Connect with us

Highlights

স্বপ্নের প্রকল্প: চুয়েটের শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর

Published

on

ফজলুর রহমান
‘‘কি যে এক নতুন অনুভূতি, আমার চোখে পানি চলে আসছে, খুশিতে কান্না চলে আসার মতো অবস্থা আমার”-চুয়েটের শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর পরিদর্শন করার সময় বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালনা (সচিব) জনাব হোসনে আরা বেগম, এনডিসি। ১৩ নভেম্বর সবুজ ক্যাম্পাসের উজ্বল আলোয় তিনি প্রকল্প স্থানে পা ফেলতে না ফেলতেই এমন অনুভূতির প্রকাশ ঘটান। এরপর বিশালাকার ইনকিউবেটর অবকাঠামো ঘুরে ঘুরে দেখে আরো মুগ্ধতা প্রকাশ করেন দেশের তথ্য-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অন্যতম শীর্ষ পর্যায়ে থাকা এই ডায়নামিক ব্যক্তিত্ব। চুয়েটের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলমও অনেক স্বপ্নে গড়া এই প্রকল্পে পা রেখে নতুন আবেগে ভাসেন।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ নির্মিত হচ্ছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রথম ইনকিউবেটর–শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইকিউবেটর । যা বাস্তবায়ন হলে দেশের তথ্য-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতৃন দিগন্তের উন্মোচন হতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রেও নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

এবার আমরা ইনকিউবেটরের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখি।

ইনকিউবেটর কি?
ইনকিউবেটর মানে আমরা সাধারণত বুঝি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর যন্ত্র। কিন্তু এখানে না আছে ডিম না ফুটবে বাচ্চা। এইরূপ প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন নতুন আইডিয়া, উদ্ভাবন বা গবেষণালব্ধ ফলাফলকে প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিসে রূপান্তর ঘটানোর লক্ষে প্রারম্ভিক সহায়তা প্রদান করা। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি হবে।

বিজনেস ইনকিউবেটর কি?
বিজনেস ইনকিউবেটর হ’ল একটি কর্মক্ষেত্র, যা একটি ছাদের নীচে সমস্ত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আনুষাঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করে স্টার্টআপ/ নতুন উদ্যোগকে সহায়তা করা হয়। ডেস্ক বা অফিস ছাড়াও, ইনকিউবেটরে প্রায়শই বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা, অর্থ সহায়তা , প্রশাসনিক সহায়তা, অফিস সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের গমনাগমনসহ আবাসিক সংস্থান থাকে।

ইনকিউবেটরের ইতিহাস

ইনকিউবেশন সংক্রান্ত কার্যক্রম সফলভাবে শুরু হয় সেই ১৯৫৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে Batavia Industrial Centre (BIC) এর মাধ্যমে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১০ হাজার আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর রয়েছে। National Business Incubation Association (NBIA)-এর ২০০৫ সালের তথ্য মতে, কেবল উত্তর আমেরিকায় এসব ইনকিউবেটরের মাধ্যমে প্রায় ১০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তি দেশ চীনে ৭০০ এর অধিক এবং ভারতে ৭০ এর অধিক ইনকিউবেটর রয়েছে।চীন ও ভারতে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক ইনকিউবেটর স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। আইটি সেক্টরে নতুন নতুন সফল উদ্যোক্তা গড়ে উঠেছে। এটা বলা হয় যে, ইনকিউবেটরে ১ ডলার বিনিয়োগ করলে ৩০ ডলার আয় করা যায়।

চুয়েটের শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সফল উদ্যোক্তা তৈরি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে চুয়েটের স্নাতকদের দক্ষ এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পারদর্শী হিসেবে গড়ে তোলা এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশনকে আরো সম্মৃদ্ধ করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে বেগবান করার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অধিকতর ভূমিকা রাখার নিমিত্তে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সর্বপ্রথম ইনকিউবেটর শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ১২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারের একটি ড্রিম প্রকল্প হিসেবে এটাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে এটার নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর ২৬তম সভায় গত ০৬ জুন, ২০১৭ খ্রি. একনেক চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুয়েটের শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন প্রকল্পটির অনুমোদন দেন।

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় চুয়েট ক্যাম্পাসে ১০ তলা ভবনের মূল ইনকিউবেশন ভবন তৈরি হবে। যাতে গবেষণা কেন্দ্র, ইনোভেশন জোন, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি কোলাবরেশন জোন, আইডিয়া ডেভল্পমেন্ট জোন, ফুডকোর্ট, প্রদর্শনী কক্ষসহ আইটি কোম্পানির জন্য অত্যাধুনিক অফিস কক্ষ থাকবে। এছাড়াও একটি ৬ তলা বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ভবনে অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি, প্রশিক্ষণ কক্ষ এবং কনফারেন্স কক্ষ থাকবে। স্টার্টআপ কোম্পানিকে আবাসিক সুবিধা প্রদানের জন্য একটি পুরুষ এবং একটি নারী ডরমিটরি তৈরি হচ্ছে। ইনকিউবেটর স্থাপন প্রকল্পের আওতায় দুইটি বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্য হলো:
১। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক/ স্নাতকদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা প্রদান।
২। বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইটি/ আইটিএস শিল্পের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা।
৩। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের সংযোগ স্থাপন করা।
৪। ভৌত অবকাঠামো ও আনুসঙ্গিক সুবিধাদি তৈরি করা।

নামকরণ: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদনক্রমে ‘চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের নাম “চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর” নামে নামকরণ করা হয়।

রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল: এই প্রকল্পের মাধ্যমে আহরিত সম্পদের ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। এজন্য “চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাক্কালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এবং চুয়েট কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নান্তে আহরিত সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য জনবল, অপারেশন এবং দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাধ্যমে চুয়েট কর্তৃপক্ষকে বাজেট বরাদ্দের কথা রয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ও পরিচালন চুয়েটের বাৎসরিক আর্থিক বরাদ্দ হতে মিটানো হবে।

পরিচালক নিয়োগ: প্রকল্পের জন্য অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার লক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হলেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্মসচিব সৈয়দ জহুরুল ইসলাম। ইনকিউবেট পরিচালনার জন্য চুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক, বিশিষ্ট প্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক-কে পরিচালক পদে সাময়িকভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সার্বিক তদারকিতে আছেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (অপারেশন এন্ড মেইন্টেন্যান্স) নরোত্তম পাল। এছাড়া নির্মাণ কাজ তদারকিতে আছেন চুয়েটের নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউর রহমান।

প্রশিক্ষণ: প্রকল্পে আইটি বিষয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির জন্য অনুমোদিত ডিপিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি গ্রাজুয়েটদের আইটি সার্ভিস প্রফেশনালে রূপান্তর করার জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। ডিপিপি’র বিবরণ অনুযায়ী চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার আইটি বিষয়ক শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল এবং এন্টারপ্রিনিউর হিসেবে গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যে চুয়েটের ২৫০জন শিক্ষার্থীকে বিগডাটা, এআই, সাইবার নিরাপত্তা,ডাটা এনালেটিক্স, মেশিন সার্ভিং, ব্লকচেইন বিষয়ে দক্ষ প্রশিক্ষক দ্বারা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।এই কাজে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী এবং অভ্যন্তরীণ/ আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মারক সম্পন্ন করে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ডিপিপি-তে নির্দেশনা আছে।

গবেষণা: এখানে গবেষণার ক্ষেত্রে মাস্টার্স এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।গবেষণার ফলাফল হিসেবে প্রত্যেকটি গবেষণা প্রস্তাব হতে একটি স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশনাসহ সেমিনার/ ওয়ার্কশপ করতে হবে। প্রকাশনার সময় অর্থায়নের উৎস প্রকাশনায় উল্লেখ করতে হবে এবং গবেষণা সমাপ্তিতে প্রেজেন্টেশন এবং গবেষণা সংক্রান্ত সব তথ্যাদি প্রকল্প অফিসে দাখিল করতে হবে। এরইমধ্যে ৭টি গবেষণা প্রকল্পে ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলগুলোকে টেকসই এবং পণ্য হিসেবে রূপান্তর করার লক্ষে এগুলোকে ইনকিউবেটরে স্টার্টআপ হিসেবে গড়ে তোলাসহ অধিকতর সুবিধা প্রদান করা হবে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর সফলভাবে বাস্তবায়ন ও পরিচালনার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখতে সক্ষম হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেন্জ মোকাবেলা ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে চুয়েটের শিক্ষার্থীদের এই ভূমিকা রাখার মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে তথ্য-প্রযুক্তির শিক্ষা-গবেষণায় “Center of Excellence” হিসেবে গড়ে উঠতে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

লেখক: প্রাবন্ধিক এবং সহকারী রেজিস্ট্রার, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। ফোন : ০১৬৭৩৭৬৪৫৬০

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Highlights

ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিস্ফোরণ ঠেকাতে করণীয়

Published

on

টেক এক্সপ্রেস ডেস্ক:
তীব্র গরমে মানুষের যেমন ভোগান্তিতে থাকে ঝামেলা হতে পারে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসেও। ডিভাইস গরম হয়র যায়, অফ হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিস্ফোরণের ঘটনা।

চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে তীব্র গরমে ঘরের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ঠান্ডা রাখবেন-
যে কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলে গরম হয়ে যেতে পারে। তাই ব্যবহারের মাঝে কিছু সময় বিরতি দিন। ডিভাইস স্বাভাবিকের থেকে বেশি গরম হচ্ছে, তখনই ওই ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কিছুক্ষনের জন্য বন্ধ করুন। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, টেলিভিশন সেট, ফ্রিজ, এসি, ফ্যান যে ডিভাইসই হোক না কেন বিরতি দিয়ে ব্যবহার করুন।

যেসব ডিভাইস প্লাগের সাহায্যে চালু রয়েছে, সেগুলো প্লাস থেকে খুলে নিন। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হবে ওই ডিভাইসে। এর পাশাপাশি সুইচের সাহায্যে যেসব ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ করা সম্ভব, সেগুলোকে সুইচ অফ করে বন্ধ করুন। স্মার্টফোন গরম হতে থাকলে স্ক্রিন ব্রাইটনেস কমিয়ে দিন। ফোন রাখুন এয়ারপ্লেন মোডে। এছাড়াও অপ্রয়োজনীয় অ্যাপে কাজ বন্ধ রাখা প্রয়োজন। যে ডিভাইস গরম হয়ে যাচ্ছে সেটিকে এমন একটি পরিবেশে রাখুন যেটি তুলনামূলক ঠান্ডা।

অর্থাৎ তাপমাত্রা কম। ল্যাপটপ কিংবা ফোনে কভার থাকলে সেটা খুলে নিন। তার ফলে ডিভাইস গরম থাকলে তাপ নির্গত হবে সহজে। এসি ঘরে রেখে ল্যাপটপ ব্যবহার করতে পারলে ভালো। ফোন বা ল্যাপটপ চার্জে দিয়ে ব্যবহার করবেন না। ফোন চার্জে দিয়ে গেম খেললে বা স্ক্রল করলে ফোন দ্রুত গরম হতে পারে। এমনকি এ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটতে পারে।

ল্যাপটপের ক্ষেত্রে ফ্যান যুক্ত কুলিং প্যাড ব্যবহার করুন। এই কুলিং প্যাডের উপর ল্যাপটপ রেখে ব্যবহার করতে পারলে ভালো। তাহলে মেশিন গরম হয়ে গেলেও নীচের কুলিং প্যাডে থাকা ফ্যানের সাহায্যে ডিভাইসের তাপ কমানো যাবে। বাড়িতে টিভি এবং গেমিং কনসোল থাকলে তার আশপাশে ফ্যান রাখুন। ফ্যানের হাওয়াতেও এইসব ডিভাইস অনেকটা ঠান্ডা থাকবে।

Continue Reading

Highlights

জেনে নিন ফেসবুক নাকি ইউটিউবে আয় বেশি?

Published

on

টেক এক্সপ্রেস ডেস্ক:
বর্তমানে ইউটিউব ও ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সেইসঙ্গে অনেকের কাছেই এটি অর্থ আয়ের একটি মাধ্যম হিসাবে গড়ে উঠেছে। অনেকেই এখন পেশাদারিভাবে ইউটিউব ও ফেসবুকের জন্য কনটেন্ট তৈরি করছেন। কোনো কোনো কনটেন্ট নির্মাতা ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে মাসে কয়েক লাখ টাকা উপার্জন করছেন।

মূলত মনিটাইজেশনের মাধ্যমে ফেসবুক ও ইউটিউব দুই জায়গা থেকেই ভালো টাকা আয় করা যায়। তবুও ক্রিয়েটরদের মধ্যে কেউ ফেসবুক, আবার কেউ ইউটিউবকে বেশি গুরুত্ব দেন। অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে ফেসবুকের থেকে বেশি পুরোনো ইউটিউব। এছাড়াও এখানে নানা বিষয়ের কনটেন্ট আপলোড হয়। যা নজর কাড়ে মানুষের। অন্যদিকে ইউটিউবে ভøগিং চ্যানেলের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে।

তবে এই দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে কোন জায়গা থেকে সব থেকে বেশি টাকা আয় করা যায় জানেন? ইউটিউব না ফেসবুক কে বেশি টাকা দেয়? পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি ১০ লাখ ভিউয়ে ফেসবুকে ২৫০ থেকে ২৬০ ডলার আয় হয়ে থাকে। যেখানে ইউটিউবে ভিডিও অনুুযায়ী ২০০০ ডলারের বেশিও আয় করা যায়। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে ইউটিউব এগিয়ে রয়েছে।

ফেসবুকে একাধিক মনিটাইজেশন টুল রয়েছে। যেমন- স্টার্স, ইন-ভিডিও পারচেস, ব্র্যান্ড কোলাবোরেশন ইত্যাদি। অন্যদিকে ইউটিউবেও রয়েছে অসংখ্য মনিটাইজেশন টুল। ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের অধীনে একাধিক উপায়ে টাকা উপার্জন করা যায়। যেমন – ইন-স্ট্রিম অ্যাড, স্পন্সরশিপ, সুপার চ্যাট ডোনেশন এবং চ্যানেল মেম্বারশিপ।

এক্ষেত্রে ফেসবুক থেকে এগিয়ে রয়েছে ইউটিউব। কারণ ইউটিউবে এনগেজমেন্ট বেশি হয়ে থাকে। পাশাপাশি ইউটিউবে ডাটা ইউসেজও অনেক বেশি। প্রতি ঘণ্টায় ১৬০ এমবি। যে কারণে ফেসবুকের থেকে মনিটাইজেসনের বিচারে এগিয়ে রয়েছে ইউটিউব।

Continue Reading

Highlights

রিয়েলফিল ক্যামেরা ফিচারের পরিধি বাড়াবে গুগল

Published

on

google

টেক এক্সপ্রেস ডেস্ক:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) নতুন ফটোগ্রাফি ফিচার চালু করতে কাজ করছে গুগল। নতুন এ ফিচার বা প্রযুক্তির উন্নয়নে কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের সঙ্গে কাজ করেছে কোম্পানিটি। এটি ব্যবহারকারীদের ছবির রেজল্যুশন বাড়ানোর পাশাপাশি এডিটিংয়ে সহায়তা করবে। খবর গিজচায়না।

পাঁচটি রেফারেন্সের পরিপ্রেক্ষিতে গুগলের নতুন ফিচারটি কাজ করবে বলে জানা গেছে। অফিশিয়াল বিবৃতির তথ্যানুযায়ী, রিয়েলফিল ডাউনলোড করা যাবে না-এমন এআই সফটওয়্যারে আঁকা ছবি নিয়ে কাজের সুবিধা দেবে। এ ছাড়া অনলাইনেও অনুরূপ সুবিধা থাকবে, যেটি ব্যবহার করে জেনারেটিভ মডেল তৈরি করা যাবে। মূলত ফিচারটি ব্যবহারকারীদের যেকোনো ছবি সহজে সম্পাদনার সুযোগ দেবে।

একটি গবেষণাপত্রের সূত্র ধরে রিয়েলফিলের এ প্রযুক্তির উন্নয়ন করা হয়েছে। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম রেফারেন্স ড্রাইভেন জেনারেশন ফর অথেনটিক ইমেজ কমপ্লিশন। এখানে একাধিক রেফারেন্স থেকে কীভাবে মূল ছবি এডিট করা হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত থাকবে। গুগলের দাবি রেফারেন্সে থাকা ছবি ব্যবহার করে ফিচারটি অন্য অ্যাপের তুলনায় ভালোভাবে কাজ করতে পারে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, এআইনির্ভর ফটোগ্রাফি টুল হিসেবে রিয়েলফিল আকর্ষণীয় হলেও এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত বেশকিছু ইমেজ জেনারেশন মডেলের তুলনায় এটি ধীরগতির। পিক্সেল স্মার্টফোন লাইনআপে নাইট সাইট মোডের মতো অ্যাডভান্সড কম্পিউট্যাশনাল ফটোগ্রাফি ফিচার যুক্ত করেছে গুগল।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ভবিষ্যতে পিক্সেল ডিভাইস বা গুগল ফটোজ অ্যাপে চারটি যুক্ত করা হবে। যদি এটি যুক্ত হয় তখন ব্যবহারকারীরা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সহজে ছবি সম্পাদনা করতে পারবেন।

Continue Reading

Trending