Tech Express
techexpress.com.bd

তুরস্কের বিপ অ্যাপ ব্যবহারে শীর্ষে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক:
তুরস্কে তৈরি ভিডিও কলিং ও মেসেজিং অ্যাপ ‘বিপ’ এর ব্যবহারে বাংলাদেশ সবার উপরে। আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির তরফ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এ বছরের গোড়ার দিকে গোপনীয়তা রক্ষা করা যায় বলে বাংলাদেশে বিপ নামের এই অ্যাপটি ডাউনলোডের হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। এমনকি এক পর্যায়ে ডাউনলোডের সংখ্যার দিক দিয়ে এটি জনপ্রিয় ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারকেও ছাড়িয়ে র‍্যাংকিং তালিকায় এক নম্বরে উঠে আসে। এখন দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশেই বিপ-এর কল আদান-প্রদান সবচেয়ে বেশি।

ঢাকায় বিপ-এর নিযুক্ত জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্ক পিআর-এর কর্মকর্তা সারা শারমিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিপ-এর জনপ্রিয়তা বিদেশে অ্যাপটির বাজারে সর্বাধিক। শনিবার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিপ-এর প্রধান নির্বাহী বুরাক আকিঞ্চিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, বালাদেশি ব্যবহারকারীরা বিপ-কে প্রথম দিন থেকেই স্বাগত জানিয়েছে। ২০২১ সালের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশে বিপ ডাউনলোড হয়েছে ২৫ লাখের ওপর।

বিপ জানিয়েছে, বাংলাদেশে বিপ ব্যবহারকারীরা ১০ জন পর্যন্ত মানুষের সাথে গ্রুপ কল ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছেন এবং কলের সংখ্যার হিসাবে বিশ্বের আর সব দেশের মধ্যে বাংলাদেশই চ্যাম্পিয়ন। অ্যাপটি সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হয় সোমবার এবং বাংলাদেশের মধ্যে বিপ-এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ঢাকা শহরে।

যে কারণে বিপ-এর এত জনপ্রিয়তা:

বিপ-এ পুরো চ্যাটের ইতিহাস কেউ চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুছে ফেলতে পারেন। এই ফিচারটা মানুষ পছন্দ করছেন। তারা বলছেন, এটা ভোক্তাদের জন্য নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে খুবই স্বস্তির। কোন চ্যাটের কোন তথ্য বিপ ব্যাক-আপ করে রাখে না বলে দাবি করে। কোন তৃতীয় পক্ষের সাথে তারা ভোক্তার কোন তথ্য আদান প্রদান করে না। বিপ-এর ভাষা অনুবাদের সক্ষমতা এই অ্যাপ-এর জনপ্রিয়তার আরও একটি বড় কারণ বলে তারা মনে করছে। বিপ বাংলাসহ ১০৬টি ভাষায় শব্দ এবং বাক্যের তাৎক্ষণিক অনুবাদ করতে পারে।

বিভিন্ন তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বছরের গোড়ার দিক থেকে বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করে। বিপের তরফ থেকে বলা হয়েছে, তাদের অ্যাপ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড, অর্থাৎ তাদের অ্যাপের মাধ্যমে ভয়েস কল এবং মেসেজ আদান-প্রদান গোপন থাকবে এবং এটি কেউ হ্যাক করতে পারবে না।

এই অ্যাপ অনেকটা হোয়াটসঅ্যাপ-সহ অন্যান্য ভিডিও কলিং ও মেসেজিং অ্যাপের মতো করেই কাজ করে। এবছরের গোড়ায় যখন বাংলাদেশে বিপ ডাউনলোডের হিড়িক শুরু হবার পর দেশটিতে ডাউনলোড বিবেচনায় গুগল প্লে স্টোরে বিপ অ্যাপের অবস্থান ছিল শীর্ষে। আইওএস চালিত আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড চালিত মোবাইল ফোনে এই অ্যাপ ডাউনলোড করা যায়। এছাড়া ডেস্কটপেও ব্যবহার করা যায় এই অ্যাপ। তুরস্কের গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায় যে মোবাইল ফোন কোম্পানি টার্কসেল এই বিপ অ্যাপ উদ্ভাবন করে ২০১৩ সালে। বিশ্বের ১৯২টি দেশে এই অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে।

ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই গোড়ার দিকে ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। গত বছর পর্যন্ত বিপ অ্যাপ সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হয় জার্মানিতে। এছাড়া, ফ্রান্স এবং ইউক্রেনেও বহু মানুষ বিপ অ্যাপ ডাউনলোড করে বলে গণমাধ্যমকে জানান তুরস্কের কর্মকর্তারা। বর্তমানে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিপ অ্যাপ-এর চাহিদা বাড়ছে বলে জানুয়ারি মাসে জানান টার্কসেল-এর কর্মকর্তারা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.