Tech Express - টেক এক্সপ্রেস
hack

শীর্ষ হ্যাকার চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার রোমানিয়া-ইউক্রেইন থেকে

রোমানিয়া ও ইউক্রেইন থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর র‌্যানসমওয়্যার হামলাকারী আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্রের তিন সদস্য। ইউরোপোল, রোমানিয়ার পুলিশ আর মার্কিন বিচারবিভাগের যৌথ উদ্যোগে হ্যাকারদের দল ‘আর-ইভিল’-এর তিন সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার অপরাধী চক্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয় ‘আর-ইভিল’-কে। বিভিন্ন সময়ে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের উপর সাইবার হামলা চালিয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছে হ্যাকারদের দলটি। ‘আর-ইভিল’-এর সদস্যদের গ্রেপ্তারে ঘোষণা এসেছে সোমবার।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরগুলোর অভিযান অনলাইন ও অফলাইনে একত্রে পরিচালিত হয়েছে বলে জানিছে বিবিসি। ‘আর-ইভিল’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই হ্যাকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রোমানিয়া থেকে, ইউক্রেইন থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে তৃতীয় এক ব্যক্তি।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, আটককৃত হ্যাকারদের কাছ থেকে ৬০ লাখ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার করেছে তারা। আর ওই ডিজিটাল মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে ‘ক্ল ব্যাক’ নামের পাল্টা হ্যাকিং অপারেশনের মাধ্যমে।

টানা তিন বছর ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপর সাইবার হামলা চালিয়ে কুখ্যাতি অর্জন করেছে ‘আর-ইভিল’। বিভিন্ন সময়ে ‘গ্র্যান্ডক্র্যাব’ এবং ‘সদিনিকোবি’ নামেও নিজর পরিচয় দিয়েছে হ্যাকারদের দলটি।

বিবিসি জানিয়েছে, ‘আর-ইভিল’ সদস্যদের ধরতেই ‘গোল্ডডাস্ট’ নামের বিশেষ অভিযান শুরু করেছিল ইউরোপোল। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রোমানিয়া, কুয়েত, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউক্রেইন থেকে সাত হ্যাকারকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, রোমানিয়া থেকে আটক দুই ব্যক্তি পাঁচ হাজার ভুক্তভোগীর ডিভাইসে র‌্যানসমওয়্যার সংক্রমণ ঘটিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ ইউরো আদায় করেছেন। বিবিসি’র প্রতিবেদন বলছে, সম্প্রতি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের বাড়তি চাপে সাইবার কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে বাধ্য হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হ্যাকারদের চক্রটির দলনেতা।

মে মাসে আর-ইভিলের র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়েছিল বিশ্বের শীর্ষ প্রক্রিয়াজাতকৃত মাংসের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ‘জেবিএস এসএ’। টানা কয়েকদিন বন্ধ ছিল প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন। শেষ পর্যন্ত এক কোটি ১০ লাখ ডলার মুক্তিপণ দিয়ে র‌্যানসমওয়্যার থেকে মুক্তি মেলে প্রতিষ্ঠানটির।

আর-ইভিলের ম্যালওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়ে কয়েক সপ্তাহ বন্ধ ছিল বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের প্রতিষ্ঠান ‘ট্রাভেলেক্স’-এর কম্পিউটার সিস্টেম। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক সফটওয়্যার নির্মাতা ‘কেসিয়া’র উপর সাইবার হামলা চালায় আর-ইভিল, যার ভুক্তভোগী হয়েছিল বিশ্বব্যাপী দেড় হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বলছে, ওই সাইবার আক্রমণের ঘটনায় মুক্তিপণ হিসেবে ২০ কোটি ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়েছিল আর-ইভিল।

ওই ঘটনার মূল হোতা হিসেবে ইউক্রেনের ইয়ারোস্লাভ ভাসিনস্কি নামের ২২ বছর বয়সী এক নাগরিককে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। অক্টোবর মাসে পোল্যান্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভাসিনস্কিকে।

আর-ইভিলের সদস্য হিসেবে ইয়েভগেনি পলইয়ানিন নামের ২৮ বছর বয়সী এক রাশিয়ান নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। পলইয়ানিনের বিরুদ্ধে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, অর্থ পাঁচারসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে, রাশিয়া নিজ দেশের নাগরিককে মার্কিন সরকারের হাতে তুলে দেবে– এমন সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে বিবিসি। ফলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে অভিযুক্ত রাশিয়ান হ্যাকারদের তালিকায় যুক্ত হল নতুন আরেকটি নাম।

বিবিসি জানিয়েছে, ‘চ্যাটেক্স’ নামের ভার্চুয়াল মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও “র‌্যানসমওয়্যার কর্মকাণ্ডে জরিতদের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ” আনা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার রে সোমবার সংবাদকর্মীদের বলেন, “তারা যতোটা মনে করে আইনের হাতের নাগাল তার চেয়েও অনেক দীর্ঘ।”

“সাইবার হুমকি আসলেও ভয়ঙ্কর। কিন্তু আমরা যখন সঠিক মানুষ, সঠিক টুল এবং সঠিক কর্তৃপক্ষকে একত্রিত করি, আমরা যৌথভাব্ যা অর্জন করতে পারি, আমাদের প্রতিপক্ষরা তার তুলনায় কিছুই নয়।”

পুরো সাইবার নিরাপত্তা খাতের জন্য আর-ইভিল সদস্যদের গ্রেপ্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল খবর বলে মন্তব্য করেছে বিবিসি। শেষ ১৮ মাসে আর-ইভিলের র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়েছে স্কুল ও হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানও। এমন পরিস্থিতিতে এই খাতের সবচেয়ে কুখ্যাত হ্যাকার চক্রটির একাধিক সদস্যের গ্রেপ্তার বড় অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অনলাইনে হ্যাকিং কর্মকাণ্ড নিয়ে খোলাখুলি নিজেদের আত্মবিশ্বাস আর অহংকার প্রকাশ করে আলোচিত হয়েছে আর-ইভিল। হ্যাকারদের দলটির সদস্যরা অনলাইনে একটি ওয়েবসাইটে নিজেদের ভুক্তভোগীদের পরিচয় শেয়ার করতো বড়াই করার জন্য; সাইটটিকে তারা আখ্যা দিতো নিজেদের ‘হ্যাপি ব্লগ’ হিসেবে। লাইভ চ্যাট আয়োজন করে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেও পিছ পা হয়নি আর-ইভিলের সদস্যরা। বিবিসি বলছে, সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোর ফলে সম্ভবত পর্দা নামছে আর-ইভিল অধ্যায়ের। -বিডিনিউজ।

webadmin

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.