Connect with us

Highlights

লকডাউনে বেড়েছে প্রতিশোধমূলক পর্নের তাণ্ডব

Published

on

নিউজ ডেস্ক:
এ বছর প্রতিশোধমূলক পর্ন অভিযোগের সংখ্যা বেড়েছে। লকডাউনের কারণে এ সমস্যা আগের চেয়ে বেশি বেড়েছে বলে মনে করছেন এ বিষয়ে কাজ করছেন এমন কর্মীরা। সম্পর্ক ভেঙে গেলে কেউ যখন প্রতিশোধের লক্ষ্যে সাবেক সঙ্গীর অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও অনলাইনে পোস্ট করেন বা পোস্ট করার হুমকি দেন, সাধারণভাবে তাকে রিভেঞ্জ পর্ন বলে বা প্রতিশোধমূলক পর্ন বলে। সাধারণত নারীরা এর সবচেয়ে বড় শিকার হয়ে থাকেন।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলছে, যুক্তরাজ্যে এ বছর প্রতিশোধমূলক পর্ন সম্পর্কিত প্রায় দুই হাজার পঞ্চাশটি অভিযোগ এসেছে। হিসেবে গত বছরের তুলনায় অভিযোগ বেড়েছে ২২ শতাংশ। করোনাভাইরাসের কারণে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার এ সময়টিতেও কমছে না অভিযোগের সংখ্যা। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে হেল্পলাইন সেবা পরিচালকদের। তাদের আশঙ্কা, এটিই হয়তো হতে চলেছে “নতুন স্বাভাবিক”।

পাঁচ বছর আগেই অবশ্য প্রতিশোধমূলক পর্নকে যুক্তরাজ্য ও ওয়েলসে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গৃহ সহিংসতা বিষয়ক দাতব্য সংস্থা ‘রিফিউজি’ এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, যুক্তরাজ্যে প্রতি সাতজন নারীর মধ্যে একজনকে অন্তরঙ্গ ছবি বিনা অনুমতিতে অনলাইনে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। শুধু লকডাউনের সময়টিতেই ‘যুক্তরাজ্য হেল্পলাইনে’ এরইমধ্যে এত বেশি প্রতিশোধমূলক পর্ন সংশ্লিষ্ট অভিযোগ এসেছে, যা পুরো ২০১৯ সালেও আসেনি।

দুই তৃতীয়াংশ অভিযোগের ঘটনাই নারীদের নিয়ে। দাতব্য সংস্থা ‘সাউথ ওয়েস্ট গ্রিড ফর লার্নিং’ পরিচালনা করছে হেল্পলাইনটি। সংস্থাটি ‘ইউকে সেইফার ইন্টারনেট সেন্টার’ প্রকল্পের অংশ। এ বছর মোট ২২ হাজার ২১৫টি ছবি মুছতে সহযোগিতা করেছে সংস্থাটি, ৯৪ শতাংশ ছবির ব্যাপারেই অভিযোগ এসেছে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে। অগাস্টে অভিযোগের সংখ্যা বেড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি।

নতুন স্বাভাবিক?

ইউকে সেইফার ইন্টারনেট সেন্টারের পরিচালক ডেভিড রাইট বলছেন, “লকডাউনের কারণে তীব্র কিছু পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে যা অসংখ্য সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসছে।” “এখানে আমরা যা দেখতে পাচ্ছি, তা আসলে ইঙ্গিত করছে আরও দীর্ঘ-মেয়াদী কিছু হয়েছে। যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে, আমরা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ব্যস্ত থাকবো। এটাই না নতুন স্বাভাবিক হয়ে উঠে তা ভেবে চিন্তা হচ্ছে।” – বলেছেন রাইট।

গৃহ সহিংসতা বিষয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা ‘উইমেন’স এইড ফাউন্ডেশন’ জানিয়েছে, উদ্ধার পাওয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশেরও বেশি অভিযুক্ত’র সঙ্গেই থাকতেন, এবং লকডাউনের সময়ে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে উঠেছিল বলে জানিয়েছেন।

‘উইমেন’স এইড ফাউন্ডেশন’ এর ক্যাম্পেইন ও নীতি ব্যবস্থাপক লুসি হ্যাডলি’র মতে, প্রতিশোধমূলক পর্ন খুবই প্রচলিত হয়রানি।

“ব্যক্তিগত যৌন ছবি ব্যক্তির সম্মতি ছাড়াই প্রকাশ – প্রকাশের হুমকি দেওয়া – খুবই প্রচলিত হয়রানি, এবং বিশেষ করে এটি স্বল্পবয়সী নারীদের ক্ষতি করছে।” -বলেছেন হ্যাডলি।

রিভেঞ্জ পর্নের বিষয়টি সাধারণত অনলাইনে বা ভার্চুয়াল জগতে ঘটলেও হ্যাডলি বলছেন, “ছবি ভিত্তিক কাঠামোর হয়রানিকে – যাকে প্রচলিত ভাষায় প্রতিশোধমূলক পর্ন বলা হয় – অবশ্যই বাস্তব জীবনে হয়রানির মতোই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।”

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য :

প্রতিশোধমূলক পর্নের শিকার হয়েছিলেন ফলামি প্রিহেয়। সাবেক সঙ্গী অনলাইনে তার খোলামেলা ছবি ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে সেই সঙ্গীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এবং তাকে হয়রানি ও অশালীন ছবি বিতরণের দায়ে ছয় মাসের স্থগিত সাজা দেওয়া হয়।

প্রিহেয় বর্তমানে ‘ভিক্টিমস অফ দ্য ইন্টারনেট ক্রাইম: স্পিক আউট’ নামে নিজস্ব ওয়েবসাইট চালাচ্ছেন। এ ধরনের সমস্যায় কবলিত ভুক্তভোগীদের মানসিক সাহস যোগাতে কাজ করছে সাইটটি।

প্রিহেয়’র ভাষ্যে, “লকডাউনে এ ধরনের সমস্যা আরও বাড়ার ঘটনাটি অবাক করার মতো কিছু নয়, এখন আরও এবং আরও বেশি মানুষ অনলাইনে সম্পর্ক গড়তে বাধ্য হচ্ছে।”

“সমস্যা আগে থেকেই ছিল, শুধু লকডাউনে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে, যৌন শিকার অনুসন্ধানের একটি সহজ জায়গা হয়েছে।” – যোগ করেছে প্রিহেয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Highlights

ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিস্ফোরণ ঠেকাতে করণীয়

Published

on

টেক এক্সপ্রেস ডেস্ক:
তীব্র গরমে মানুষের যেমন ভোগান্তিতে থাকে ঝামেলা হতে পারে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসেও। ডিভাইস গরম হয়র যায়, অফ হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিস্ফোরণের ঘটনা।

চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে তীব্র গরমে ঘরের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ঠান্ডা রাখবেন-
যে কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলে গরম হয়ে যেতে পারে। তাই ব্যবহারের মাঝে কিছু সময় বিরতি দিন। ডিভাইস স্বাভাবিকের থেকে বেশি গরম হচ্ছে, তখনই ওই ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কিছুক্ষনের জন্য বন্ধ করুন। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, টেলিভিশন সেট, ফ্রিজ, এসি, ফ্যান যে ডিভাইসই হোক না কেন বিরতি দিয়ে ব্যবহার করুন।

যেসব ডিভাইস প্লাগের সাহায্যে চালু রয়েছে, সেগুলো প্লাস থেকে খুলে নিন। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হবে ওই ডিভাইসে। এর পাশাপাশি সুইচের সাহায্যে যেসব ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ করা সম্ভব, সেগুলোকে সুইচ অফ করে বন্ধ করুন। স্মার্টফোন গরম হতে থাকলে স্ক্রিন ব্রাইটনেস কমিয়ে দিন। ফোন রাখুন এয়ারপ্লেন মোডে। এছাড়াও অপ্রয়োজনীয় অ্যাপে কাজ বন্ধ রাখা প্রয়োজন। যে ডিভাইস গরম হয়ে যাচ্ছে সেটিকে এমন একটি পরিবেশে রাখুন যেটি তুলনামূলক ঠান্ডা।

অর্থাৎ তাপমাত্রা কম। ল্যাপটপ কিংবা ফোনে কভার থাকলে সেটা খুলে নিন। তার ফলে ডিভাইস গরম থাকলে তাপ নির্গত হবে সহজে। এসি ঘরে রেখে ল্যাপটপ ব্যবহার করতে পারলে ভালো। ফোন বা ল্যাপটপ চার্জে দিয়ে ব্যবহার করবেন না। ফোন চার্জে দিয়ে গেম খেললে বা স্ক্রল করলে ফোন দ্রুত গরম হতে পারে। এমনকি এ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটতে পারে।

ল্যাপটপের ক্ষেত্রে ফ্যান যুক্ত কুলিং প্যাড ব্যবহার করুন। এই কুলিং প্যাডের উপর ল্যাপটপ রেখে ব্যবহার করতে পারলে ভালো। তাহলে মেশিন গরম হয়ে গেলেও নীচের কুলিং প্যাডে থাকা ফ্যানের সাহায্যে ডিভাইসের তাপ কমানো যাবে। বাড়িতে টিভি এবং গেমিং কনসোল থাকলে তার আশপাশে ফ্যান রাখুন। ফ্যানের হাওয়াতেও এইসব ডিভাইস অনেকটা ঠান্ডা থাকবে।

Continue Reading

Highlights

জেনে নিন ফেসবুক নাকি ইউটিউবে আয় বেশি?

Published

on

টেক এক্সপ্রেস ডেস্ক:
বর্তমানে ইউটিউব ও ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সেইসঙ্গে অনেকের কাছেই এটি অর্থ আয়ের একটি মাধ্যম হিসাবে গড়ে উঠেছে। অনেকেই এখন পেশাদারিভাবে ইউটিউব ও ফেসবুকের জন্য কনটেন্ট তৈরি করছেন। কোনো কোনো কনটেন্ট নির্মাতা ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে মাসে কয়েক লাখ টাকা উপার্জন করছেন।

মূলত মনিটাইজেশনের মাধ্যমে ফেসবুক ও ইউটিউব দুই জায়গা থেকেই ভালো টাকা আয় করা যায়। তবুও ক্রিয়েটরদের মধ্যে কেউ ফেসবুক, আবার কেউ ইউটিউবকে বেশি গুরুত্ব দেন। অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে ফেসবুকের থেকে বেশি পুরোনো ইউটিউব। এছাড়াও এখানে নানা বিষয়ের কনটেন্ট আপলোড হয়। যা নজর কাড়ে মানুষের। অন্যদিকে ইউটিউবে ভøগিং চ্যানেলের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে।

তবে এই দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে কোন জায়গা থেকে সব থেকে বেশি টাকা আয় করা যায় জানেন? ইউটিউব না ফেসবুক কে বেশি টাকা দেয়? পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি ১০ লাখ ভিউয়ে ফেসবুকে ২৫০ থেকে ২৬০ ডলার আয় হয়ে থাকে। যেখানে ইউটিউবে ভিডিও অনুুযায়ী ২০০০ ডলারের বেশিও আয় করা যায়। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে ইউটিউব এগিয়ে রয়েছে।

ফেসবুকে একাধিক মনিটাইজেশন টুল রয়েছে। যেমন- স্টার্স, ইন-ভিডিও পারচেস, ব্র্যান্ড কোলাবোরেশন ইত্যাদি। অন্যদিকে ইউটিউবেও রয়েছে অসংখ্য মনিটাইজেশন টুল। ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের অধীনে একাধিক উপায়ে টাকা উপার্জন করা যায়। যেমন – ইন-স্ট্রিম অ্যাড, স্পন্সরশিপ, সুপার চ্যাট ডোনেশন এবং চ্যানেল মেম্বারশিপ।

এক্ষেত্রে ফেসবুক থেকে এগিয়ে রয়েছে ইউটিউব। কারণ ইউটিউবে এনগেজমেন্ট বেশি হয়ে থাকে। পাশাপাশি ইউটিউবে ডাটা ইউসেজও অনেক বেশি। প্রতি ঘণ্টায় ১৬০ এমবি। যে কারণে ফেসবুকের থেকে মনিটাইজেসনের বিচারে এগিয়ে রয়েছে ইউটিউব।

Continue Reading

Highlights

রিয়েলফিল ক্যামেরা ফিচারের পরিধি বাড়াবে গুগল

Published

on

google

টেক এক্সপ্রেস ডেস্ক:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) নতুন ফটোগ্রাফি ফিচার চালু করতে কাজ করছে গুগল। নতুন এ ফিচার বা প্রযুক্তির উন্নয়নে কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের সঙ্গে কাজ করেছে কোম্পানিটি। এটি ব্যবহারকারীদের ছবির রেজল্যুশন বাড়ানোর পাশাপাশি এডিটিংয়ে সহায়তা করবে। খবর গিজচায়না।

পাঁচটি রেফারেন্সের পরিপ্রেক্ষিতে গুগলের নতুন ফিচারটি কাজ করবে বলে জানা গেছে। অফিশিয়াল বিবৃতির তথ্যানুযায়ী, রিয়েলফিল ডাউনলোড করা যাবে না-এমন এআই সফটওয়্যারে আঁকা ছবি নিয়ে কাজের সুবিধা দেবে। এ ছাড়া অনলাইনেও অনুরূপ সুবিধা থাকবে, যেটি ব্যবহার করে জেনারেটিভ মডেল তৈরি করা যাবে। মূলত ফিচারটি ব্যবহারকারীদের যেকোনো ছবি সহজে সম্পাদনার সুযোগ দেবে।

একটি গবেষণাপত্রের সূত্র ধরে রিয়েলফিলের এ প্রযুক্তির উন্নয়ন করা হয়েছে। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম রেফারেন্স ড্রাইভেন জেনারেশন ফর অথেনটিক ইমেজ কমপ্লিশন। এখানে একাধিক রেফারেন্স থেকে কীভাবে মূল ছবি এডিট করা হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত থাকবে। গুগলের দাবি রেফারেন্সে থাকা ছবি ব্যবহার করে ফিচারটি অন্য অ্যাপের তুলনায় ভালোভাবে কাজ করতে পারে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, এআইনির্ভর ফটোগ্রাফি টুল হিসেবে রিয়েলফিল আকর্ষণীয় হলেও এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত বেশকিছু ইমেজ জেনারেশন মডেলের তুলনায় এটি ধীরগতির। পিক্সেল স্মার্টফোন লাইনআপে নাইট সাইট মোডের মতো অ্যাডভান্সড কম্পিউট্যাশনাল ফটোগ্রাফি ফিচার যুক্ত করেছে গুগল।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ভবিষ্যতে পিক্সেল ডিভাইস বা গুগল ফটোজ অ্যাপে চারটি যুক্ত করা হবে। যদি এটি যুক্ত হয় তখন ব্যবহারকারীরা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সহজে ছবি সম্পাদনা করতে পারবেন।

Continue Reading

Trending